Category Archives: চট্টগ্রাম

ময়নামতি


ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি বাংলাদেশের কুমিল্লাতে অবস্থিত একটি কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মায় সংঘটিত যুদ্ধে যে ৪৫০০০ কমনওয়েলথ সৈনিক নিহত হন, তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে মায়ানমার (তৎকালীন বার্মা), আসাম, এবং বাংলাদেশে ৯টি রণ সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে দুটি কমনওয়েলথ রণ সমাধিক্ষেত্র আছে, যার একটি কুমিল্লায় এবং অপরটি চট্টগ্রামে অবস্থিত। প্রতিবছর প্রচুর দেশী-বিদেশী দর্শনার্থী যুদ্ধে নিহত সৈন্যদের প্রতি সম্মান জানাতে এ সমাধিক্ষেত্রে আসেন।

ময়নামতি রণ সমাধিক্ষেত্র মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯০৩-১৯৪৫) নিহত ভারতীয় (তৎকালীন) ও বৃটিশ সৈন্যদের কবরস্থান। এটি ১৯৪৬ সালে তৈরি হয়েছে। কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের খুব কাছেই এই যুদ্ধ সমাধির অবস্থান। এই সমাধিক্ষেত্রটি Commonwealth War Graves Commission (CWGC) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ও তারাই এ সমাধিক্ষেত্র পরিচালনা করেন। প্রতি বছর নভেম্বর মাসে সকল ধর্মের ধর্মগুরুদের সমন্বয়ে এখানে একটি বার্ষিক প্রার্থনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাধিক্ষেত্রটিতে ৭৩৬টি কবর আছে। এর মধ্যে অধিকাংশ কবর হল সে সময়কার হাসপাতালের মৃত সৈনিকগণের। তাছাড়াও যুদ্ধের পর বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু লাশ স্থানান্তর করেও এখানে সমাহিত করা হয়। বাহিনী অনুযায়ী এখানে রয়েছেন ৩ জন নাবিক, ৫৬৭ জন সৈনিক এবং ১৬৬ জন বৈমানিক। সর্বমোট ৭২৩ জন নিহতের পরিচয় জানা সম্ভব হয়েছিল।


সমাধিক্ষেত্রটির প্রবেশমুখে একটি তোরণ ঘর, যার ভিতরের দেয়ালে এই সমাধিক্ষেত্রে ইতিহাস ও বিবরণ ইংরেজি ও বাংলায় লিপিবদ্ধ করে একখানা দেয়াল ফলক লাগানো রয়েছে। ভিতরে সরাসরি সামনে প্রশস্থ পথ, যার দুপাশে সারি সারি কবর ফলক। সৈন্যদের ধর্ম অনুযায়ী তাদের কবর ফলকে নাম, মৃত্যু তারিখ, পদবির পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতীক লক্ষ করা যায়- খ্রিস্টানদের কবর ফলকে ক্রুশ, মুসলমানদের কবর ফলকে আরবি লেখা (যেমন: হুয়াল গাফুর) উল্লেখযোগ্য। প্রশস্থ পথ ধরে সোজা সম্মুখে রয়েছে সিঁড়ি দেয়া বেদি, তার উপরে শোভা পাচ্ছে খ্রিস্টধর্মীয় পবিত্র প্রতীক ক্রুশ। বেদির দুপাশে রয়েছে আরো দুটি তোরণ ঘর। এসকল তোরণ ঘর দিয়ে সমাধিক্ষেত্রের পিছন দিকের অংশে যাওয়া যায়। সেখানেও রয়েছে আরো বহু কবর ফলক। প্রতি দুটি কবর ফলকের মাঝখানে একটি করে ফুলগাছ শোভা পাচ্ছে। এছাড়া পুরো সমাধিক্ষেত্রেই রয়েছে প্রচুর গাছ। সমাধিক্ষেত্রের সম্মুখ অংশের প্রশস্থ পথের পাশেই ব্যতিক্রমী একটি কবর রয়েছে, যেখানে একসাথে ২৩টি কবর ফলক দিয়ে একটা স্থানকে ঘিরে রাখা হয়েছে।

সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ

সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপবাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলারটেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের সমুদ্রপ্রেমিদের কাছে এটি ব্যাপক পরিচিত একটি নাম। বিখ্যাত লেখক,কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এর দারুচিনির দ্বীপ নামের পূর্ণদৈর্ঘ্য ছায়াছবি দ্বারা এই দ্বীপটির পরিচিতি আরো বেড়ে যায়

সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। এ দ্বীপের তিন দিকের ভিত শিলা যা জোয়ারের সময় তলিয়ে যায় এবং ভাটার সময় জেগে ওঠে। এগুলোকে ধরলে এর আয়তন হবে প্রায় ১০-১৫ বর্গ কিলোমিটার। এ দ্বীপটি উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ৫.৬৩ কিলোমিটার লম্বা। দ্বীপের প্রস্থ কোথাও ৭০০ মিটার আবার কোথাও ২০০ মিটার। দ্বীপটির পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে সাগরের অনেক দূর পর্যন্ত অগণিত শিলাস্তূপ আছে।সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের গড় উচ্চতা ৩.৬ মিটার। সেন্ট মার্টিন্সের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিক জুড়ে রয়েছে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার প্রবাল প্রাচীর। 
ভৌগোলিকভাবে এটি তিনটি অংশে বিভক্ত। উত্তর অংশকে বলা হয় নারিকেল জিনজিরা বা উত্তর পাড়া। দক্ষিণাঞ্চলীয় অংশকে বলা হয় দক্ষিণ পাড়া এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে দক্ষিণ-পূর্বদিকে বিস্তৃত একটি সঙ্কীর্ণ লেজের মতো এলাকা। এবং সঙ্কীর্ণতম অংশটি গলাচিপা নামে পরিচিত। দ্বীপের দক্ষিণে ১০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটার আয়তনের ছোট দ্বীপ আছে যা স্থানীয়ভাবে ছেড়াদিয়া বা সিরাদিয়াছেঁড়া দ্বীপ নামে পরিচিত। এটি একটি জনশূন্য দ্বীপ। ভাটার সময় এই দ্বীপে হেটে যাওয়া যায়। তবে জোয়ারের সময় নৌকা প্রয়োজন হয়।
দ্বীপটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন মৌসুমে এখানে প্রতিদিন ৫টি লঞ্চ বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড হতে আসা যাওয়া করে। সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে বর্তমানে বেশ কয়েকটি ভালো আবাসিক হোটেল রয়েছে। একটি সরকারি ডাকবাংলো আছে। সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল।

টেকনাফ

১৯৩০ সালে টেকনাফ থানা গঠিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়।[২] টেকনাফ উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন আছে। সম্পূর্ণ টেকনাফ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম টেকনাফ মডেল থানার আওতাধীন।
2০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী টেকনাফ উপজেলার জনসংখ্যা ২,৬৩,৩৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,৩২,৮৫৭ জন এবং মহিলা ১,৩০,৫৩২ জন।[১] মোট জনসংখ্যার ৯৭.২% মুসলিম, ১.৩% হিন্দু, ১.৪% বৌদ্ধ এবং ০.১% খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা টেকনাফে এবং পার্শ্ববর্তী দেশ বার্মায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতেন। টেকনাফ ডাকবাংলোতে পাকবাহিনী তাদের ক্যাম্প স্থাপন করে। রামু, উখিয়া ও টেকনাফ থেকে লোকজন ধরে এনে এখানে নির্যাতন করে হত্যা করা হত। এ ক্যাম্পে ২৫০ জন বাঙালিকে হত্যা করা হয়।

দর্শনীয় স্থান

খাগড়াছড়ি

১৯৮৩ সনের ৭ই নভেম্বর খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা গঠিত হয়। ২২.৩৮ডিগ্রী হতে ২৩.৪৪ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ ও ৯১.৪২ ডিগ্রী হতে ৯২.১১ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এর অবস্থান। পাহাড়, ছোট ছোট নদী, ছড়া ও সমতল ভূমি মিলে এটি একটি অপরূপ সৌন্দর্য্যমন্ডিত ঢেউ খেলানো এলাকা। চেঙ্গী, মাইনী ও ফেণী প্রভৃতি এ জেলার উল্লেখযোগ্য নদী। এ ছাড়াও এতে রয়েছে ৩৩৬৮টি পুকুর, জলাশয় ও দীঘি যার ৬৭% খাস।

জেলার উত্তর ও পশ্চিমে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলা এবং পূর্বে রাঙ্গামাটি জেলা অবস্থিত। মোট আয়তন ২৬৯৯.৫৫ বর্গ কিলোমিটার। উঁচু ভূমির পরিমাণ ৮৫% প্রায় এবং সমতল ভূমির পরিমাণ ১৫% (প্রায়)। জেলায় মোট ১২১টি মৌজার রয়েছে যার মধ্যে ৮৮টি মং সার্কেল ও ৩৩টি চাকমা সার্কেলের অন্তর্ভূক্ত। মং সার্কেলের আওতাধীন এলাকাগুলো হচ্ছে খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা, রামগড়, মানিকছড়ি, মহালছড়ি, পানছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার আংশিক এবং চাকমা সার্কেলের অধীনে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার আংশিক ও দীঘিনালা উপজেলা। গ্রামের সংখ্যা ৩৫৩, ইউনিয়ন-৩৫টি, উপজেলা-০৮টি, থানা-০৯টি, পৌরসভা-০৩টি।

রাঙ্গামাটি

নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ২২– ২৭” ও ২৩– ৪৪” উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১– ৫৬” ও ৯২– ৩৩” পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। রাঙ্গামাটির উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম, দক্ষিণে বান্দরবান, পূর্বে মিজোরাম ও পশ্চিমে চট্রগ্রাম ও খাগড়াছড়ি। এ জেলা আয়তনের দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ জেলা। দেশের এক মাত্র রিক্সা বিহীন শহর, হ্রদ পরিবেষ্টিত পর্যটন শহর এলাকা। এ জেলায় চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খেয়াং, চাক্, পাংখোয়া, লুসাই, সুজেসাওতাল, রাখাইন সর্বোপরি বাঙ্গালীসহ ১৪টি জনগোষ্ঠি বসবাস করে।

            রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই তিন পার্বত্য অঞ্চলকে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা সৃষ্টির পূর্বের নাম ছিল কার্পাস মহল। পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা থেকে১৯৮১ সালে বান্দরবান এবং ১৯৮৩ সালে খাগড়াছড়ি পৃথক জেলা সৃষ্টি করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার মূল অংশ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রথাগত রাজস্ব আদায় ব্যবস্থায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় রয়েছে চাক্মা সার্কেল চীফ। চাক্‌মা রাজা হলেন নিয়মতান্ত্রিক চাক্‌মা সার্কেল চীফ।

           বৃটিশ আমল থেকে পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যমান বিশেষ প্রশাসনিক কাঠামোর পাশাপাশি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৭সালে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই কাঠামোতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।পার্বত্য চুক্তির আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় নামে একটি পৃথক মন্ত্রণালয়, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যাবলী সমন্বয় সাধনের জন্য রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন এর জন্য ১টি টাস্ফফোর্স এবং পার্বত্য এলাকায় ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ভূমি কমিশন গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং হাট-বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য বাজার ফান্ড নামক প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি পার্বত্যজেলায় জাতীয় সংসদের কেবল ১টি আসন রয়েছে।

              এজেলায় উপজাতীয় ও অ-উপজাতীয় অধিবাসীগণ বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী। উপজাতীয়দের অধিকাংশ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং কিছু সংখ্যক হিন্দু এবং খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী। অ-উপজাতীয়দের অধিকাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী

কক্সবাজার

কক্সবাজারের প্রাচীন নাম পালংকী । একসময় এটি প্যানোয়া নামে পরিচিত ছিল। প্যানোয়া শব্দটির অর্থ ‘হলুদ ফুল’।অতীতে কক্সবাজারের আশপাশের এলাকাগুলো এই হলুদ ফুলে ঝকমক করত। এটি চট্টগ্রাম থেকে ১৫৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। 

ইংরেজ অফিসার ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স ১৭৯৯ খ্রিঃ এখানে একটি বাজার স্থাপন করেন । কক্স সাহেবের বাজার হতে  কক্সবাজার নামের উৎপত্তি ।


প্রধান দ্বীপ: মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহ্পরীর দ্বীপ, ছেডাঁ দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন

বান্দরবান


বান্দরবান জেলা অবস্থিত বাংলাদেশ সবচাইতে দক্ষিণ-পূর্ব জেলা। মূলত চারটি উপজেলায় বিভক্ত। তার মধ্যে থানচি রুমা আলীকদম এবং সাঙ্গ মাতা হরি বন্যপ্রাণী ও  অভয় অরণ্য, অন্যতম। একে বাংলাদেশের  কাশ্মীর বলা হয়। যেখানে রয়েছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচু পাহাড় চিম্বুক এবং নীলগিরি। যেখান থেকে উৎপন্ন হয়েছে সাঙ্গু নদী এবং পতিত হয়েছে বাংলাদেশে। বান্দরবান জেলায় প্রবেশ পথে আপনাকে স্বাগত জানাবে আপনাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশাল এক সাইনবোর্ড দিয়ে যেখানে লেখা আছে সম্প্রীতির বার্তা পাহাড়ি এবং বাঙালির মধ্যে। শহরে রয়েছে স্বর্ণমন্দির। যা আপনাকে পুরনো এক  স্থাপত্য-শৈলীর নিদর্শন। বান্দরবান শহরের সবচেয়ে তে আকর্ষণীয় দিক আমার কাছে লাগে, পথে পথে পাহাড়ী  ফলমূল সাজিয়ে বসা দোকান গুলো, মিষ্টি পেঁপে আনারস আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক সাধের জগতে যদি আপনি ভজন রসিক হয়ে থাকেন। অপূর্ব স্থাপত্য-শৈলীর নিদর্শন আর এখন গড়ে ওঠা ডিজিটালাইজেশন। আপনি প্রত্যেকটি যে উপজেলায় বিদ্যুৎ পাবেন। যা সত্যিই এক অকল্পনীয় বিষয়। বাংলাদেশ কতদূর এগিয়েছে/  তার তার জ্বলন্ত উদাহরণ এই বান্দরবান। এক পাশে পুরো সুন্দর্য বহু করার জন্য রয়েছে সেনাবাহিনী এবং বিডিআর এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্যপাশে এক অনন্য সম্প্রীতির জেলা বান্দরবান। আপনি বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত হতে বান্দরবনের সরাসরি আসতে পারেন।

কোথায় ঘুরবেন?

বান্দরবনে রয়েছে স্বর্ণমন্দির শত বছরের ঐতিহ্য লালন করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অন্যপাশে আপনি রুমা যাবে যেতে পারেন। রুমা সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে আপনাকে এক রাত থাকার পরিকল্পনা করতে হবে। বাংলাদেশের পাহাড়ি কন্যা রমা। যেতে হবে কখনো পথে চকচকে পিচ ঢালা পথে আবার কিছুদুর পাহাড়ি নৌকায় এবং কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে। এক অনন্য অ্যাডভেঞ্চার আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক জগতে। আপনারা যারা ছুটি কাটাতে ব্যাংকক , মালয়েশিয়া/কিংবা ভারতের হিমাচলে হিমাচলে যান, তারা যদি একবার রুম ঘুরে আসেন। আমার মনে হয়, দ্বিতীয়বার এই ভুলটি করবেন না, রুমা আপনাকে টেনে যাবে বারবার ।আপনার ছুটির দিনগুলোকে রঙিন করে তুলবে, এক অন্য মায়াবী জগতে, 
আর আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় হন। আমার পরামর্শ হলো আপনি প্রথমে বান্দরবান শহরে প্রবেশ না করে, আলীকদম যাবেন ঢাকা থেকে, সেখান থেকে আপনি থানচি যাবেন। তারপরে নীলগিরি সৌন্দর্য উপভোগ করবেন, তারপর চিম্বুক। কিংবা শৈলকুপা হয়ে বান্দরবান শহরে রাত কাটাতে পারেন। তারপর পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রুমা যেতে পারেন। আপনি পথে পথে পাবেন পিচ ধালা পাহাড়ি রাস্তার অ্যাডভেঞ্চার আর অপরূপ সৌন্দর্যের নিদর্শন। যেন সৃষ্টিকর্তা আপনার জন্যই তৈরি করে রেখেছে। আপনার বিনোদনের জন্যই। আপনার ছুটির দিনগুলোকে রঙিন করার জন্য,।

বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত হতে আপনি বান্দরবনে আসতে পারবেন খুব সহজে,। কিন্তু আমি যে পথটি আপনাকে দেখাবো, এক অন্য জগতে ,সেটি অন্য রকমের , আপনি ঢাকা থেকে শ্যামলী পরিবহনের বাসে করে আলীকদম আসতে পারেন। আপনি সেখানে ছোট ছোট থাকার জন্য হোটেল পাবেন। ছোট্ট একটি শহর আলীকদম। আপনি যখন হোটেল রুমের সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা খেয়ে খেতে খেতে উপভোগ করবেন, পাহাড়ি বেষ্টিত জাদুর নগরী। থাকতে না চাইলে, সেখানে রয়েছে যাওয়ার ব্যবস্থা চান্দের গাড়ি, কিংবা আপনি বন্ধু-বান্ধবসহ পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে যাবেন ,তাহলে কিছু ভাই রয়েছে যারা মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে শহরের কয়েকটি স্পটে, শহরের প্রেসক্লাবের সামনে হতে আপনি মোটরসাইকেল ভাড়া করতে পারেন থানচি যাওয়া পর্যন্ত জন্য। কিংবা চাইলে বান্দরবান পর্যন্ত। আমি থানচি কথা পরামর্শ দেব, ভাড়া টা খুব সামান্য আপনার উপভোগ্য উপকরণের তুলনায়,20 কিলো রাস্তা ভাড়া মাত্র আপনি একা হলে 500 থেকে 600 টাকা কিংবা দুজন হলে নিতে পারেন প্রতিটি মোটরসাইকেল এর ভাড়া। প্যাসেঞ্জার সিটে বসে উঁচু নিচু পাহাড় এ রাস্তার চলবেন, আর আপনার যেখানে মনে হবে আমি এখানে কিছুক্ষণ সময় কাটাবো , সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়বেন, ছবি তুলতে পারেন ভিডিও করতে পারবেন, মনের ইচ্ছা মত। সেখান থেকে থানচি যাবেন। দেখবেন নিরাপত্তাবেষ্টিত কতটা আপনাকে স্বাধীনভাবে ঘুরে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।। তারা পথে পথে তাদের চেকপোস্টে রয়েছে। আপনি আপনাকে সেখানে আপনার নাম ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং আপনার এ স্বার্থে। আপনি যে গাইড রুপি মোটর সাইকেল ভাড়া নিয়েছেন তার বিবরণ থাকবে সেখানে, আপনার ভয় পাওয়ার কিছু নাই, আপনি চাইলে তাদের কাছ থেকে নাম্বার নিতে পারেন যে কোন সাহায্য সহযোগিতার জন্য ফোন দিবেন তা আপনাকে সহযোগিতা করার জন্যই বসে আছে এবং আপনাকে নিষিদ্ধ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যে এই  পাহাড়ি পথে, আর যারা গাইড আপনি পাবেন তা সবাই দক্ষ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তারা রয়েছে। ভয় পাওয়ার বা বিপদের আশঙ্কা আর কোন কিছু নাই। আপনি থানছিতে থাকার জন্য পাবেন সেনাবাহিনী তৈরি কটেজ। এবং বেসরকারি ভাবে নির্মিত অনেক ছোট ছোট হোটেল। যেগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে, বা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন। আপনার ভ্রমণকে অত্যন্ত মিশ্রিত নিরাপত্তাবেষ্টিত করা । এই নিয়ে কোনো ভয় পাওয়ার কোন কিছু নেই, শুধু আপনি সেখানে যাবেন সৌন্দর্যও করার জন্য কোন ভয় পাওয়ার জন্য নয় বা কোন দুর্ঘটনা ঘটার জন্য নয়। আপনি চাইলে নদী পথে ও বান্দরবান শহরের দিকে, থানচি দেখা শেষ হলে আপনি, দুটো জিনিস পাবেন একটি চান্দের গাড়ি অন্যটি বাস। কিংবা ভাড়া করা মোটরসাইকেল তো রয়েছে। যেখান হতে নীলগিরি আসতে পারেন, নীলগিরি সৌন্দর্য দুই রকমের আমার মতে, একটা শীতকালীন আরেকটি বর্ষাকালীন। আপনি শীতের সকালে নীলগিরি হিলিং স্পটে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নির্মিত কটেজে, রাত করাতে পারেন, বন্ধু-বান্ধবসহ কিংবা পরিবার-পরিজনসহ কিংবা আপনি  গ্রুপ সহ থাকতে পারবেন। চাইলে সেখানে রেস্টুরেন্ট রয়েছে। নিজেরা রান্না কর খেতে পারবেন। রাতের শীতের রাতের রান্না আপনার পছন্দমত পাহাড়ি সবজি পাবেন, ফলমূল পাবেন নীল, নীল গিরির রাস্তায় পসরা সাজিয়ে বসে আছে। স্থানীয় পাহাড়ি লোকজন। আর সেখানকার ফল মনে হতো এত সুস্বাদু যে আপনি ইচ্ছে করলে সে গুলোকে দু-তিন দিন কাটে দিতে পারবেন। দাম এর কথা মাথায় আনবেন না। বাংলা ঢাকায় কিংবা বাংলাদেশের যে কোন জায়গায় 1 কেজি পেঁপের যা মূল্য তার অর্ধেক মূল্য তে স্বর্গীয় অমৃত ও অমৃত সমৃদ্ধ পেঁপে কিনতে পারবেন মাত্র অর্ধেক মূল্যে যা অবিশ্বাস্য। নীলগিরিতে হেলিপ্যাড রয়েছে। জরুরী প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য। মনে করেন হেলিকপ্টারে করে বা এই বান্দরবান এর সুন্দর  দেহ ভোগ করবেন !!! তাহলে বাংলাদেশ এখন অনেক হেলিকপ্টার সার্ভিস রয়েছে। আপনি ,আপনার জন্য সদা প্রস্তুত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরামর্শ নিয়ে যে কোন একটি ভাড়া করতে পারেন। যেটি খরচ থাইল্যান্ডে এগিয়ে কিংবা কিংবা অন্য কোন দেশে গিয়ে যে খরচটি আপনি করে আসেন তারা অর্ধেক খরচে দ্বিগুণ মায়াবী জগতের আনন্দ উপভোগ করবেন। নীলগিরি হতে চিম্বুক এর দূরত্ব মাত্র 20 কিলোমিটার। আপনি সেখান থেকে খুব সহজেই চিম্বুক যেতে পারেন। চিম্বুকে বন্যপ্রাণী অভয় অরণ্যে ও চাইলে রাত কাটাতে পারে। ভয় নেই বাঘ কিংবা সিংহ খাবার আপনি হবেন না নিশ্চিত। কিন্তু ভাগ্য ভালো থাকলে গর্জন তো শুনতে পারবেন। এতে  শীতকালীন সৌন্দর্য, চিন্তা করুন একবার খুব ভোরে আপনি ঘুম থেকে উঠেছেন এক কাপ চা হাতে নীলগিরি কিংবা চিম্বুকের চূড়ায় বসে আছেন আর সূর্য পাহাড় ভেদ করে উপরে উঠছে, একবার চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন, আমি ঘুরে আমি ঘুরে এসেছি, এখনো চোখ বন্ধ করে লিখার সময় ভাবছি আর অনুভব করি এ এক অন্য জগত যদি আপনি প্রকৃতি প্রেমী হন। আপনি সেখানে যেতে পারেন সত্যি বলছি এক অপরূপ সৌন্দর্য ভোগ করবেন। আপনি চিম্বুক হতে চান্দের গাড়ি চড়ে  বান্দরবান শহরে আসবেন। মাঝখানে শৈলকুপা তে স্নান করে নিতে পারেন। আর আপনি যদি বর্ষায় জান এপ্রিল মাসের পর থেকে জুন জুলাই অগাস্ট কিংবা সেপ্টেম্বরে। আপনি নীলগিরি চূড়ায় বসে, চায়ের সঙ্গে সঙ্গে সূর্যটা দেখতে সূর্যটা দেখতে পাচ্ছেন সঙ্গে বাংলাদেশের সবচাইতে বড় ঝরনা শব্দ আপনার কানে ভেসে আসছে। পৃথিবীর কোন দেশে একসঙ্গে, আপনি এটা পাবেন না। একটু বেলা হলে আপনি আধা কিলোমিটারের পথে ঝর্ণার তে গিয়ে গোসল করে আসতে পারেন, দেখে নিতে পারেন সৃষ্টিকর্তার এক অপূর্ব নিদর্শন। যা আপনাকে দেখতে সুইজারল্যান্ড যেতে হবে না। আপনার পাসপোর্ট লাগবে না ভিসা ও লাগবে না হ্যাঁ সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় পরিচয় পত্র ঠিক রাখবেন যেটি আপনার নিবন্ধন করতে কাজে লাগবে। যা দিয়ে আপনার নিরাপত্তা বিধান করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

কিভাবে যাবেন ?

বান্দরবান রাত কাটিয়ে আপনি যেতে পারেন রুমা। মিশে যেতে পারেন, আমাদেরই পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত মানুষের সঙ্গে। মনে রাখবেন তারা আপনাকে মন প্রাণ উজাড় করে আতিথিয়তা প্রদান করবে। এরা ভিন্ন কেউ নয়, ভিন্ন কোন দেশ থেকে আসা নয়। এরা আমাদের দেশের বসবাসরত এবং এরা বাংলাদেশের সন্তান অন্য কোন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী মাত্র। আপনি তাদের ব্যবহার এবং তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যদি একটি দিন কাটিয়ে আসতে পারেন তবে মনে করবেন আপনি জীবনে অনেক কিছু পেয়েছেন। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে অনেক কিছু দেখার এবং উপলব্ধি করার সুযোগ করে দিয়েছে। আপনার জীবন পরিপূর্ণ। ঢাকা চট্টগ্রামের অলিতে গলিতে তো স্পা সেন্টার অনেক রয়েছে, তার জন্য মালয়েশিয়া কিমা ব্যাংকক যাওয়ার কী প্রয়োজন । যারা সেখানে যাই বেশিরভাগই শে স্পা সেন্টার এর মজার নেওয়ার জন্য যায় আর বাড়তি কিছু অবৈধ কিংবা বৈধ ইনকামের খরচটা বাড়াতে চায়, সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে চায়,মানুষকে বোঝাতে চায়। আমার অনেক টাকা রয়েছে আমি ব্যাংকক থেকে ঘুরে আসলাম । কিন্তু বান্দরবানের এ সৌন্দর্য উপলব্ধি করে একবার ঘুরে আসতে পারেন আসতে পারেন ।

Live Jurney to distinction the suach The root of Bangladesh . ist Juarny Cox’s Bazar to Chimbok via Alli kodom, and nilgiliri

1st vedio for ; bnbat.com
bnbat.com